১। সাধু-মহাপুরুষদিগকে নিকটস্থ আত্মীয় লোকেরা অগ্রাহ্য করে, দূরের লোকদিগের নিকট তাঁদের আদর হয়, এর কারণ কি? - যেমন বাজিকরের বাজি, তাদের কাছের আত্মীয় লোকেরা দেখে না, দূরের লোকেরা দেখে অবাক হয়ে যায়।
২। বজ্রবাঁটুলের বীচি গাছের তলায় পড়ে না, উড়ে গিয়ে দূরে পড়ে ও সেখানে গাছ হয়। সেই রকম ধর্মপ্রচারকদিগের ভাব দূরেতেই প্রকাশ হয় ও লোকে আদর করে।
৩। লণ্ঠনের নীচে অন্ধকার থাকে, দূরে আলো পড়ে। সেই রকম সাধু মহাপুরুষদের নিকটের লোকেরা বুঝতে পারে না, দূরের লোকেরা তাঁদের ভাবে মুগ্ধ হয়।
৪। আপনাকে মারতে হলে একটি নরুন দিয়ে হয়; কিন্তু অপরকে মারতে গেলে, ঢাল-তরবারের দরকার হয়। তেমনি লোকশিক্ষা দিতে হলে অনেক শাস্ত্র পড়তে হয় ও অনেক তর্ক-যুক্তি ক'রে বোঝাতে হয়, কিন্তু আপনার ধর্মলাভ কেবল একটি কথায় বিশ্বাস করলেই হয়।
৫। ও দেশেতে লোকে যখন ধান মাপে, একজন মাপতে থাকে আর একজন পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে; যেই কম পড়ে আসে, পেছনে যে গাদা করা থাকে, তা থেকে ঠেলে দিয়ে তার সামনে যুগিয়ে দেয়। তেমনি যারা ঠিক ঠিক সাধু ভক্ত, ঈশ্বরীয় কথা বলা ফুরাতে না ফুরাতে তাদের ভেতর থেকে ভাব যুগিয়ে আসে। তাদের ভাব আর ফুরোয় না।
৬। যেমন একজন কাঠ ইত্যাদি সংগ্রহ ক'রে আগুন জ্বেলে বসে থাকে, আর পাঁচজনেও এসে বসে পোহায়; তেমনি সাধু-সন্ন্যাসীরা কঠোর তপস্যা ক'রে ভগবানকে জানেন, আর পাঁচজন এসে তাঁদের সঙ্গ করে, তাঁদের উপদেশ শুনে ভগবানে চিত্ত স্থির করে।
৭। প্রকৃত প্রচার কি রকম জান? লোককে না ভজিয়ে আপনি ভজলে যথেষ্ট প্রচার হয়। যে আপনি মুক্ত হতে চেষ্টা করে, সে যথার্থ প্রচার করে। যে আপনি মুক্ত, শত শত লোক কোথা হতে আপনি এসে তার কাছে শিক্ষা লয়। দৃষ্টান্তস্বরূপ ঠাকুর বলতেন, "ফুল ফুটলে ভ্রমর আপনি এসে জোটে।"
No comments:
Post a Comment