১। তাঁর প্রতি কিরূপ মন চাই? যেমন সতীর পতিতে, কৃপণের ধনেতে, বিষয়ীর বিষয়েতে - এইরূপ টান যখন ভগবানের প্রতি হয়, তখন ভগবানলাভ হয়।
২। মার পাঁচটি ছেলে আছে। তিনি কাকেও খেলনা, কাকেও পুতুল, কাকেও বা খাবার দিয়ে ভুলিয়ে রেখে দিয়েছেন। তার মধ্যে যে ছেলেটি খেলনা ফেলে দিয়ে 'মা কোথা' বলে কাঁদে, তিনি তৎক্ষণাৎ তাকে কোলে তুলে নিয়ে ঠাণ্ডা করেন। হে জীব! তুমি কাম-কাঞ্চন নিয়ে ভুলে আছ। এসব ফেলে দিয়ে যখন ঈশ্বরের জন্য কাঁদবে, তখন তিনি এসে তোমায় কোলে ক'রে নেবেন।
৩। বিষয়লাভ হল না, ছেলে হল না বলে লোকে কেঁদে ভাসিয়ে দেয়, কিন্তু ভগবানলাভ হল না, ভগবানের পাদপদ্মে ভক্তি হল না বলে এক ফোঁটা চোখের জল কজন লোকে ফেলে?
৪। ঋষিকৃষ্ণ (যীশুখ্রীষ্ট) একদিন সমুদ্রের ধারে বেড়াচ্ছিলেন। একটি ভক্ত এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে, "প্রভো, কি করলে ঈশ্বরকে পাওয়া যায়?" তিনি তৎক্ষণাৎ তাকে জলের ভেতর নিয়ে ডুবিয়ে রাখলেন। খানিকক্ষণ পরে হাত ধরে তুলে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার কিরূপ অবস্থা হচ্ছিল?" ভক্তটি উত্তরে বললেন, "প্রাণ যায় যায় - আটুপাটু কচ্ছিল।" প্রভু যীশু তখন তাকে বললেন, "যখন তোমার ভগবানের জন্য প্রাণ এমনি আটুপাটু করবে তখন তাঁর দর্শনলাভ হবে।"
৫। ছেলে যেমন পয়সার জন্য মার কাছে আব্দার করে, কখনও কাঁদে, কখনও মারে, সেইরূপ আনন্দময়ী মাকে আপনার হতে আপনার জেনে তাঁকে দেখবার জন্য যিনি সরল শিশুর ন্যায় ব্যাকুল হয়ে ক্রন্দন করেন, তাঁকে সচ্চিদানন্দময়ী মা দেখা না দিয়ে থাকতে পারেন না।
৬। ভগবানলাভের জন্য ব্যাকুলতার কথায় পরমহংসদেব বলতেন, "যখন দক্ষিণেশ্বরের ঠাকুরবাড়িতে সন্ধ্যা-আরতির কাঁসর-ঘণ্টা বেজে উঠত তখন আমি গঙ্গার ধারে গিয়ে মাকে কেঁদে কেঁদে চিৎকার ক'রে বলতুম, 'মা, দিন তো গেল, কই এখনও তোমার দেখা পেলুম না।'"
৭। যার তৃষ্ণা পায়, সে কি গঙ্গার জল ঘোলা বলে তখনি একটি পুকুর কেটে জল পান করতে যায়? তেমনি যার ধর্মতৃষ্ণা পায়নি, সে এ-ধর্ম ঠিক নয়, ও-ধর্ম ঠিক নয় - এইরূপ বলে গোলমাল ক'রে বেড়ায়। তৃষ্ণা থাকলে অত বিচার করা চলে না।
No comments:
Post a Comment