১। যেমন আম, পেয়ারা ইত্যাদি আস্ত ফল ঠাকুরের সেবায় ও সকল কাজে লাগতে পারে কিন্তু একবার কাকে ঠুকরে দাগী করলে আর দেবসেবায় সে ফল দেওয়া যায় না, ব্রাহ্মণকে দান করা যেতে পারে না, আপনিও খাওয়া উচিত নয়; সেইরূপ পবিত্রহৃদয় বালক ও যুবাদের ধর্মপথে লয়ে যাবার চেষ্টা করা উচিত। কেন না তাদের ভেতর বিষয়-বুদ্ধি একেবারে প্রবেশ করেনি। একবার বিষয়-বুদ্ধি ঢুকলে পরমার্থপথে লয়ে যাওয়া ভার।
২। আমি ছেলেদের এত ভালবাসি কেন জান? ছেলেবেলা তাদের মন ষোল আনা নিজের কাছে থাকে, ক্রমে ভাগ হয়ে পড়ে। বে' হলে আট আনা স্ত্রীর উপর যায়, ছেলে হলে আবার চার আনা তাদের প্রতি যায়, বাকি চার আনা মা-বাপ, মান-সম্ভ্রম, বেশভূষা ইত্যাদিতে চলে যায়; এইজন্য ছেলেবেলায় যারা ঈশ্বরলাভের চেষ্টা করে তারা সহজে তাঁকে লাভ করতে পারবে। বুড়োদের হওয়া বড় কঠিন।
৩। যেমন টিয়া পাখীর গলায় কাঁটি উঠলে আর পড়ে না, ছেলেবেলায় শেখালে শীঘ্র পড়ে, তেমনি বুড়ো হলে সহজে ঈশ্বরে মন যায় না, ছেলেবেলায় তাদের মন অল্পতেই স্থির হয়।
৪। এক সের দুধে এক ছটাক জল থাকলে সহজে অল্প জ্বাল দিয়ে ক্ষীর করা যায়, কিন্তু এক সের দুধে তিন পোয়া জল থাকলে সহজে ক্ষীর হয় না, অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে জ্বাল দিতে হয়, তবে হয়; সেই রকম বালকের মনে বিষয়-বাসনা খুব কম, এইরূপ যে একটুতে ঈশ্বরের দিকে যায়, কিন্তু বুড়োদের মনে বিষয়-বাসনা গজ গজ করে; তাইতে তাদের মন সহজে তাঁর দিকে যায় না।
৫। যেমন কচি বাঁশ অতি সহজে নোয়ানো যায়, পাকা বাঁশ নোয়াতে গেলে ভেঙ্গে যায়, তেমনি ছেলেদের মন সহজে ঈশ্বরে নিয়ে যাওয়া যায়; কিন্তু বুড়োদের মন সহজে ঈশ্বরের দিকে টানতে গেলে ছেড়ে পালায়।
৬। মানুষের মন যেন সরষের পুঁটলী। সরষের পুঁটলী একবার ছড়িয়ে গেলে যেমন কুড়ানো ভার হয়ে উঠে, তেমনি মানুষের মন একবার সংসারে ছড়িয়ে গেলে তখন স্থির করা বড় কঠিন হয়ে পড়ে। বালকের মন ছড়ায়নি, অল্পতেই স্থির হয়; কিন্তু বুড়োদের ষোল আনা মন সংসারে ছড়িয়ে রয়েছে, সংসার থেকে মন তুলে ঈশ্বরে স্থির করা বড় শক্ত।
৭। সূর্যোদয়ের পূর্বে দধি মন্থন করলে যেমন উত্তম মাখন উঠে থাকে, বেলা হলে কিন্তু আর ভাল মাখন তোলা যায় না; সেইরূপ বাল্যকালে যারা ঈশ্বরানুরাগী হয় ও সাধন-ভজন করে, তাদের ঈশ্বরলাভ হয়ে থাকে।
৮। বাসনাহীন মন কেমন জান? যেন শুকনো দেশলাই - একবার ঘষলে দপ করে জ্বলে উঠে। আর ভিজে হলে ঘষতে ঘষতে কাঠি ভেঙ্গে গেলেও জ্বলে না। সেইমত সরল, সত্যনিষ্ঠ, নির্মল-স্বভাব লোককে একবার উপদেশ দিলেই ঈশ্বরানুরাগের উদয় হয়। বিষয়াসক্ত ব্যক্তিকে শত শতবার উপদেশ করলেও কিছু হয় না।
No comments:
Post a Comment