১। পরমহংসদেব সর্বদা বলতেন - "হাততালি দিয়ে সকালে ও সন্ধ্যাকালে হরিনাম করো, তা হলে সব পাপতাপ চলে যাবে। যেমন গাছের তলায় দাঁড়িয়ে হাততালি দিলে গাছের সব পাখী উড়ে যায়, তেমনি হাততালি দিয়ে হরিনাম করলে দেহ-গাছ থেকে সব অবিদ্যারূপ পাখী উড়ে পালায়।"
২। আগে সাদাসিধে জ্বর হোত, সামান্য পাঁচন ইত্যাদিতে সেরে যেত; এখন যেমন ম্যালেরিয়া জ্বর, তেমনি ডি. গুপ্ত ঔষধ। আগে লোকে যোগযাগ, তপস্যা করত; এখন কলির জীব অন্নগত প্রাণ, দুর্বল মন, এক হরিনামই একাগ্র হয়ে করলে সব সংসারব্যাধি নাশ পায়।
৩। জান্তে, অজান্তে বা ভ্রান্তে যে কোন ভাবেই হোক না কেন, তাঁর নাম করলেই ফল হবে। কেউ তেল মেখে নাইতে যায়, তারও যেমন স্নান হয়, আর যদি কাউকে জলে ঠেলে ফেলে দেওয়া যায়, তারও তেমনি স্নান হয় - আর কেউ ঘরে শুয়ে আছে, তার গায়ে জল ঢেলে দিলে তারও স্নানের কাজ হয়ে যায়।
৪। অমৃতকুণ্ডে যে কোন প্রকারে হোক, একবার পড়তে পারলেই অমর হওয়া যায়; কেউ যদি স্তবস্তুতি ক'রে পড়ে, সেও অমর হয়, আর কাউকে যদি কোন রকমে ঠেলে সেই অমৃতকুণ্ডে ফেলে দেওয়া যায়, সেও অমর হয়; তেমনি ভগবানের নাম জান্তে অজান্তে বা ভ্রান্তে যে প্রকারে হোক, নিলে তার ফল হবেই হবে।
৫। এই কলিযুগে নারদীয় ভক্তিমতই প্রশস্ত। অন্য অন্য যুগে নানা রকমের কঠোর সাধনের নিয়ম ছিল; সে সকল সাধনে এ যুগে সিদ্ধিলাভ করা বড় কঠিন। একে জীবের অল্প পরমায়ু, তাতে মালোয়ারী (ম্যালেরিয়া) রোগে কাবু ক'রে ফেলে, কঠোর তপস্যা কেমন ক'রে করবে?
No comments:
Post a Comment