১। দুই রকমের সাধক দেখা যায় - যেমন, বাঁদরের ছানা এবং বিল্লীর ছানা। বাঁদরের ছানা আগে তার মাকে ধরে, পরে তার মা তাকে সঙ্গে ক'রে যেখানে সেখানে নিয়ে বেড়ায়। বেড়ালের ছানা কেবল এক জায়গায় বসে মিউ মিউ করতে থাকে, তার মা যখন যেখানে ইচ্ছা হয় ঘাড়ে ধরে নিয়ে যায়। তেমনি জ্ঞানী বা কর্মী সাধক বাঁদরের ছানার ন্যায় পুরুষকার দ্বারা ঈশ্বরলাভ করতে চেষ্টা ক'রে থাকে। আর ভক্ত সাধকেরা ঈশ্বরকে সকলের কর্তা জ্ঞান করে, তাঁর চরণে বিড়াল-ছানার ন্যায় নির্ভর ক'রে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকে।
২। এক ব্যক্তি যেমন কারও পিতা, কারও জ্যাঠা, কারো খুড়া, কারো মেসো, কারো ভগ্নীপতি, কারো শ্বশুর ইত্যাদি ইত্যাদি। এস্থলে ব্যক্তি এক হলেও কিন্তু সম্বন্ধভেদে অনেক প্রকার প্রভেদ রয়েছে, তেমনি সেই এক সচ্চিদানন্দকে ভক্তেরা শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য, মধুর প্রভৃতি নানাভাবে উপাসনা করে।
৩। যার যেমন ভাব, তার তেমনি লাভ হয় অর্থাৎ যে তাঁকেই চায়, সে তাঁকেই পায়। আর যে তাঁর ঐশ্বর্য্য কামনা করে, সে তাই পেয়ে থাকে।
৪। রাজবাড়িতে ভিক্ষা করতে গিয়ে যে লাউ, কুমড়ো ইত্যাদি সামান্য বস্তু প্রার্থনা করে, সে অতি নির্বোধ। রাজাধিরাজ ভগবানের দ্বারস্থ হয়ে জ্ঞান ভক্তি ইত্যাদি রত্ন প্রার্থনা না ক'রে অষ্টসিদ্ধাই প্রভৃতি তুচ্ছ বস্তুর নিমিত্ত যে প্রার্থনা করে সে বড়ই নির্বোধ।
৫। ভক্ত কিংবা জ্ঞানীর ভাব বাইরে থেকে বোঝা বড় কঠিন হয়ে থাকে। যেমন হাতীর দুরকম দাঁত দেখা যায় - বাইরের দাঁত কেবল দেখাবার, তার দ্বারা খাওয়া চলে না; আর এক রকম দাঁত মুখের ভেতরে আছে, তার দ্বারা খেয়ে থাকে। তেমনি অনেক সময় সাধকেরা আপনার ভাব গোপন রেখে অন্য রকম দেখান।
৬। যোগী দুই প্রকার - গুপ্ত যোগী ও ব্যক্ত যোগী। গুপ্ত যোগী যাঁরা, তাঁরা গোপনে গোপনে ভগবানের সাধন ভজন ক'রে থাকেন, লোককে আদপেও জানতে দেন না। আর ব্যক্ত যোগী যাঁরা, তাঁরা বাহ্যিক যোগদণ্ড ইত্যাদি ধারণ ক'রে লোকের সঙ্গে ঐ সব প্রসঙ্গই করে থাকেন।
No comments:
Post a Comment